খিচুড়ি রান্না নয় ম্যানেজমেন্ট দেখতে বিদেশে প্রশিক্ষণ : প্রাথমিক ও গনশিক্ষা সচিব

খিচুড়ি রান্না নয় ম্যানেজমেন্ট দেখতে বিদেশে প্রশিক্ষণ : প্রাথমিক ও গনশিক্ষা সচিব

খিচুড়ি রান্না নয় ম্যানেজমেন্ট দেখতে বিদেশে প্রশিক্ষণ : প্রাথমিক ও গনশিক্ষা সচিব

এএনবি ঃ খিচুড়ি রান্না প্রশিক্ষণের জন্য নয়, বরং অন্যান্য দেশের স্কুলগুলোতে মিড ডে মিল (দুপুরের খাবার) কিভাবে বাস্তবায়ন করে, সে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তর গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

এক্ষেত্রে মোট প্রকল্পের অতি অল্প অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে উল্লেখ করে আকরাম আল হোসেন বলেন, এ অর্থ ব্যয় কোনো অপচয় নয়, বরং অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাটা রাখা হয়েছে। তাছাড়া প্রকল্পের কোনো অর্থ এখনো ছাড়া হয়নি। পরিকল্পনা কমিশন কিছু জিজ্ঞাসা পাঠিয়েছে, সেগুলোর জবাব পাঠানো হবে এবং সবশেষে একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।

আগামী বছর থেকে সারাদেশে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সব স্কুলে দুপুরের খাবার দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করার জন্য ভারতসহ যেসব দেশ মিড ডে মিল চালু করেছে, সেসব দেশ থেকে অভিজ্ঞা অর্জনের জন্য এক হাজার কর্মকর্তার এ প্রশিক্ষণের কম্পোনেন্টা রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় স্কুল ফিডিং পলিসি অনুমোদিত হয়েছে এবং এই পলিসির ভিত্তিতে ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাচ্চাদের দুপুর বেলা দুই ধরনের খাবার দেয়া হবে। এর মধ্যে তিন দিন বিস্কুট এবং বাকি তিন দিন রান্না করা খাবার (খিচুড়ি, কারণ এটা সবচেয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ) সরবরাহ করা হবে।

যারা এটি বাস্তবায়ন করবেন তাদের সক্ষমতার জন্য প্রত্যেকটা প্রকল্পে দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের আওতায়ও এক হাজার কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলোতে পাঠানো হবে। সেখানে গিয়ে তারা দেখবেন কিভাবে মিড ডে মিল চালু আছে এবং কিভাবে তারা বিষয়টি ম্যানেজ করছে। অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্যই বিদেশে কর্মকর্তারা গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন, যোগ করেন তিনি।

খিচুড়ি কিভাবে রান্না করে সেটার জন্য কিন্তু বিদেশে লোক পাঠানো হচ্ছে না উল্লেখ করে সচিব বলেন, এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য কিভাবে মিড ডে মিল চালু করতে হবে সেই ম্যানেজমেন্ট দেখার জন্যই আসলে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা।

প্রকল্পের আওতায় আরো যে সব খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে সেগুলো হলো- সোশ্যাল মবিলাইজেশন খাতে সাড়ে ৭ কোটি, পরামর্শক খাতে ৬ কোটি, আসবাবপত্র ক্রয়ে দুই কোটি, আট লাখ টাকা ব্যয়ে শীতাপত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ক্রয় এবং সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ ছাড়া ১৭ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে খাদ্য ক্রয়ে, খাদ্য সরবরাহে ১৭ কোটি টাকা, প্লেট ক্রয়ে ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, প্রাইজ কন্টিনজেন্সি খাতে ১৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জিপ ও ৬টি মাইক্রোবাস, যানবাহন রক্ষাণাবেক্ষণে দেড় কোটি টাকা, পেট্রোল, অয়েল এন্ড লুব্রিকেন্ট ক্রয়ে ৮০ লাখ টাকা এবং যাতায়াতে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।