দাম কম ইলিশের বাজারে সয়লাব

দাম কম ইলিশের বাজারে সয়লাব

দাম কম ইলিশের বাজারে সয়লাব

এএনবি ঃ জাতীয় মাছ ইলিশের মৌসুম চলছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে ফের মাছ ধরা শুরু হওয়ায় সাগর ও নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। ফলে বাজার সয়লাব এ মাছে। একদিকে যেমন মাছের আকার তুলনামূলক বড়, অন্যদিকে সরবরাহ থাকায় দামও কিছুটা কম। তবে খাল-বিল, হাওর, নদীতে পানি বেশি থাকায় বাজারে দেশি মাছের সংখ্যা কম, দামও বেশ চড়া।

শুক্রবার দেশের বিভিন্ন হাটে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাজারেই চলছে ইলিশের রমরমা বেচাকেনা। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশে ভরে গেছে বাজার। দাম কম হওয়ায় ক্রেতারাও কিনছেন খুশি মনে। তবে দেশি মাছের দাম বেশি হওয়ায় সেগুলো কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।

কাওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এবার সারাদেশেই বড় আকারের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ায় রাজধানীর পাইকারি আড়ৎগুলো প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আমদানি করেছে। তাই বাজারগুলোতেও মাছের সরবরাহ ভালো।

এক মাছ বিক্রেতা জানান, এই সপ্তাহে বাজারে ৪০০ গ্রাম থেকে শুরু করে দুই কেজি ওজনের প্রচুর ইলিশ এসেছে। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি দরে।

বাজার থেকে দেড় কেজি ওজনের দুটি ইলিশ কিনেছেন রিফাত আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। ইলিশের দাম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুটি ইলিশের দাম নিয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। বছরের অন্যান্য সময় এত বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যায় না। আগে এমন বড় সাইজের তিন কেজি ইলিশ কিনতে কম করে হলেও ৪ হাজার টাকা লাগতো। কিন্তু এবার দাম কম।

তবে দেশি মাছের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইলিশ ছাড়াও অন্যান্য দেশি মাছ কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় শুধু চাষের রুই কিনেছেন।

এ বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও দেশি মাছ কম আসছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যার কারণে দেশি মাছ কম ধরা পড়ছে। তাই বাজারেও কম আসছে। আর সরবরাহ কম থাকায় দামও কিছুটা বেশি।

তারা আরো বলেন, বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে, টেংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে, একই দামে পাওয়া যাচ্ছে চিতল, আইড় মাছ। চিংড়ি ৯০০ টাকা কেজি দরে, একই দামে বেলে মাছ বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষের চিংড়ি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, টেংড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।