মিঠাপুকুরে কালবৈশাখী ঝড়ে হাড়িভাঙা আমের ব্যাপক ক্ষতি

মিঠাপুকুরে কালবৈশাখী ঝড়ে হাড়িভাঙা আমের ব্যাপক ক্ষতি

মিঠাপুকুরে কালবৈশাখী ঝড়ে হাড়িভাঙা আমের ব্যাপক ক্ষতি


আসাদুজ্জামান আফজাল রংপুর
মিঠাপুকুর উপজেলার উপর দিয়ে কালবৈশাখীর তান্ডব বয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে দেশসেরা হাড়িভাঙা আমের। ভূট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্নস্থানে বৈদ্যুতিক খুটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক জায়গায় বসতবাড়ি উড়ে গেছে। মুষুলধারে বৃষ্টি, সেই সাথে প্রবলবেগে বাতাস। প্রায় দেড় ঘন্টা স্থয়ী এই ঝড়োহাওয়া অসংখ্য বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ৩টি খুট উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে দেশসেরা হাড়িভাঙা আম বাগানের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় এক লাখ মন আম ঝরে পড়েছে বলে কৃষি বিভাগ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বান্দেরপাড়া বাবুরহাট গ্রামের মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া এ মৌসুমে আড়াই একর জমিতে ভূট্টা চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন কালবৈশাখীর ঝড়ে বেশিরভাগ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। খোড়াগাছ ইউনিয়নের আখিরাহাট এলাকার বারঘরিয়া সর্দারপাড়া গ্রামের আমবাগান মালিক আবদুস সালাম সরকার বলেন আমার ১৪ একর জমিতে হাড়িভাঙা আমের বাগান রয়েছে। গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি এবার পুষিয়ে নিতে পারব বরে আশা করেছিলাম। কিন্তু আশায় গুরেড়বালি। কাল বৈশাখী ঝড়ে এক তৃতীয়াংশ গাছের আম ঝরে পঢ়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার হোসেন বরেন উপজেলার এক হাজার একশ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙা আমা বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২৫০ টি গাছ। এবার প্রতি গাছে গড়ে ৫ মন করে আম ধরেছে। এ হিসেবে প্রায় ১৪ লাখ মন আম উৎপাদন হওয়ার আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে অক্ষ অর্জ সম্ভব হবেনা। প্রায় একলাখ মন আম ঝড়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান ভূট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। রংপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার নূরুর রহমান বলেন মিঠাপুকুর উপজেলা সদরে ২টি এবং শঠিবাড়িতে একটি খুটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে ও জানান তিনি।